মনোযোগের ঘাটতি ও অতিচঞ্চলতা জনিত সমস্যাই হল ADHD।এর পূর্ণরূপ হলো Attention Deficit Hyperactivity Disorder।
এটি শিশুদের স্নায়ুবিকাশজনিত একটি সমস্যা, যা অনেক সময় প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্তও থেকে যেতে পারে। অমনোযোগিতা (Inattention),অতিচঞ্চলতা (Hyperactivity), আবেগপ্রবণতা (Impulsivity) ADHD-এর প্রধান ৩টি লক্ষণ। ADHD সাধারণত শিশুদের (বিশেষ করে ৭ বছর বয়সের আগে) শনাক্ত করা হয়। তবে অনেক সময় এটি বড়দের মধ্যেও দেখা যায়, যাকে Adult ADHD বলা হয়। ছেলেদের মধ্যে এই সমস্যা মেয়েদের তুলনায় বেশি দেখা যায়।
ADHD-এর কোনো একক বা সুনির্দিষ্ট কারণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।যদি মস্তিষ্কের কিছু অংশ (যেমন ফ্রন্টাল লোব, যা মনোযোগ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে) স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা ধীরগতিতে কাজ করে বা আকারে ভিন্ন হয় তখন ADHD আক্রান্ত ধরা হয়।এছাড়া ছোটবেলায় মস্তিষ্কের সামনের অংশে কোনো গুরুতর আঘাত লাগলে তা থেকে পরবর্তী সময়ে মনোযোগের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।আবার ছোটবেলায় পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবারের অভাবেও ADHD আক্রান্ত হতে পারে।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় “ADHD” নামের ওপর ভিত্তি করে ওষুধ দেওয়া হয় না, বরং রোগীর মানসিক লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ওষুধ নির্বাচন করা হয়। এনাকার্ডিয়াম ওরি মূলত রোগীর স্নায়ুতন্ত্র এবং মনস্তাত্ত্বিক আচরণের ওপর কাজ করে।এটি মস্তিষ্কের ক্লান্তি বা “Brain Fag” দূর করতে সাহায্য করে। ADHD আক্রান্ত যেসব শিশু বা বড়রা পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না বা বার বার পড়ার পরও সব ভুলে যায়, তাদের স্নায়ুর দুর্বলতা কাটিয়ে স্মৃতিশক্তি পুনরুদ্ধার করতে এটি সহায়তা করে। যে সব রোগীরা মানসিক দ্বন্দ্বে ভুগে অর্থাৎ যারা দোটানার কারণে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না এবং অস্থির হয়ে পড়ে,এনাকার্ডিয়াম এই মানসিক দোটানা ও বিশৃঙ্খলা দূর করে মনকে স্থির ও শান্ত করতে সাহায্য করে। ADHD রোগীদের মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।অনেক ADHD রোগী বারবার ব্যর্থ হওয়ার কারণে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে,সে ভাবে তাকে দিয়ে আর কিছু হবে না।এনাকার্ডিয়াম ওরি রোগীর মনের এই ভীতি দূর করে এবং আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।যদি কোনো শিশু বা ব্যক্তি খুব খিটখিটে মেজাজের হয় এনাকার্ডিয়াম ওরি তাদের স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করে উগ্র মেজাজ ও নিষ্ঠুর প্রবৃত্তি দমন করতে সাহায্য করে।
এনাকার্ডিয়াম ওরি ADHD রোগীদের কাজ করবে কি না, তা বোঝার একটি বড় উপায় হলো রোগীর খাদ্যাভ্যাস।যদি খাবার খাওয়ার সময় রোগীর মানসিক অস্থিরতা সাময়িকভাবে কমে যায় এবং সে শান্ত বোধ করে, তবে এই ওষুধটি তার স্নায়ুতন্ত্রের ওপর সবচেয়ে কার্যকরভাবে কাজ করে।



